স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে_ডা. আয়শা

স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে_ডা. আয়শা

সাধারণত গরম আবহাওয়ায় অর্থাৎ প্রতিবছর জুন-জুলাইয়ের দিকে করোনা ভাইরাস বেশি সংক্রমিত হয়। এ বছরও তাই হয়েছে। তবু বিশ্বের অন্যান্য দেশে বেশি সংক্রমিত হওয়ায় বাংলাদেশে আগাম সতর্ক করার জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৩। মে মাসে ৮৬ জন আর চলতি মাসের ১৭ জুন পর্যন্ত ২ হাজার ১২১ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এবং জুনে মারা গেছেন ৭ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এর তিন বছর পর ২০২৩ সালের মে মাসে করোনার কারণে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ)।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে করোনা ভাইরাসের ওমিক্রনের একটি উপধরন জেএন.১-এ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল। দ্রুত এ ধরন ছড়িয়ে পড়ার কারণে জেএন.১-কে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে ওমিক্রনের সাব-ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও বাংলাদেশে এখনও তার তীব্রতা পাওয়া যায়নি, তাই সতর্কতা হিসেবে অবশ্যই মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। কারণ একমাত্র স্বাস্থ্যবিধি করোনা প্রতিরোধের উত্তম পন্থা। বাইরে গেলে মাস্ক পরিধান করা, জনসমাবেশ এড়িয়ে চলা, যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা, হাঁচি-কাশির সময় মুখে রুমাল ব্যবহার করা আবশ্যক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যে ১১টি নির্দেশনা আছে সেগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মানলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেবে এবং কোভিডের সংক্রমণ এড়ানো যাবে এবং অসুস্থ অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।

করোনা সংক্রমণের হার এখনও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কিছুটা কম, তবু অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে যাতে সংক্রমণটা বেড়ে না যায়, আর যদি বেড়েও যায় তার প্রস্তুতি স্বাস্থ্য বিভাগের নেওয়া আছে। জনগণকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১ দফা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলব, তাতে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটা কমে আসবে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১ দফা নির্দেশনা সবাই মেনে চললে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে :

১. জনসমাগম যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন এবং উপস্থিত হতেই হলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।

২. শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।

৩. হাঁচি বা কাশির সময় বাহু বা টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।

৪. ব্যবহৃত টিস্যুটি অবিলম্বে ঢাকনাযুক্ত ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ফেলুন।

৫. ঘন ঘন সাবান ও পানি কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন (অন্তত ২০ সেকেন্ড)।

৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ ধরবেন। ঘন ঘন সাবান ও পানি কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন (অন্তত ২০ সেকেন্ড)।

৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ ধরবেন না।

৭. আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।

————সন্দেহজনক রোগীর ক্ষেত্রে করণীয়:————

১. জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকুন।

২. রোগীর নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন।

৩. রোগীর সেবাদানকারীরাও সতর্কতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করুন।

৪. প্রয়োজন হলে কাছের হাসপাতালে অথবা আইইডিসিআর (০১৪০১-১৯৬২৯৩) অথবা স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩)-এর নম্বরে যোগাযোগ করুন।

করোনা রোগী যেমন বাড়ছে অন্যদিকে ডেঙ্গুও চোখ রাঙাচ্ছে। তবে এ দুটি রোগ থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় প্রতিরোধ। আসুন, সবাই মিলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলি। আতঙ্ক নয়, চাই সচেতনতা।

মূলত বর্ষা এলে প্রতিবছরই ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। কিন্তু চলতি বছর একই সময়ে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সচেতন করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বার্তা দিয়ে যাচ্ছে, কারণ প্রতিরোধই একমাত্র উত্তম পন্থা।

হোক ডেঙ্গু বা কোভিড সবাইকে সচেতন হতেই হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে স্বাস্থ্যসচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং হালকা ব্যায়াম ও নিয়ম করে রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো অবশ্যই প্রয়োজন। নিজে ভালো থাকি, পরিবারকে ভালো রাখি, দেশকে ভালোবাসি। আসুন সবাই একসঙ্গে কাজ করি।

[লেখক: ডা. আয়শা আক্তার: উপপরিচালক, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, শ্যামলী, ঢাকা।]

এসবিডি নিউজ ডেস্ক