চাকরির প্রলোভনে প্রতারণাঃ মতিঝিল থানায় একাধিক মামলা

চাকরির প্রলোভনে প্রতারণাঃ মতিঝিল থানায় একাধিক মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি,এসবিডি নিউজ24 ডট কমঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় একাধিক প্রতারক চক্র নিরীহ লোকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকে সহায় সম্বল ভিটে মাটি বিক্রি করে এ চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে লাখ লাখ টাকা। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ প্রতারক চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করার পর এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রতারকদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক ব্যক্তি যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় মিন্টু রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ছুটে আসেন। প্রতারকদের শনাক্তের পর ভুক্তভোগীরা মতিঝিল থানায় একাধিক মামলা করেন। মামলার সূত্র ও প্রতারিত হওয়া একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মসিউর রহমান জানান, যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা, চৌগাছা, কেশবপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশে চাকরির প্রলোভন দিয়ে মানুষের সর্বস্ব হাতিয়ে নিতে একাধিক প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ চক্রের সঙ্গে ঢাকার ভুয়া মেজরসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদবি পরিচয়ে একাধিক প্রতারক একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। জেলা শহরের প্রতারকরা ঢাকার একাধিক চক্রের সঙ্গে চুক্তির পর তারা লোক সংগ্রহ করে। এরপর ভুয়া নিয়োগপত্র হাতে ধরিয়ে সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট বন্ধ করে দেয়। এ ধরনের একাধিক চক্রের শতাধিক সদস্যদের নামের তালিকা তাদের হাতে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না ওই কর্মকর্তা। তালিকা যাচাই-বাছাই করে খুব শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, একটু সচেতন হলেই এভাবে প্রতারিত হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। তবে এ চক্রের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কোনো বিপদগামী সদস্যদের যোগসূত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী যশোর জেলার চৌগাছা থানার উজিরপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা জানান, তাদের পাশের গ্রাম মুক্তারপুরের ফসিয়ার রহমানের সঙ্গে তার বাবার দীর্ঘদিনের পরিচয়। সেইসূত্র ধরে ফসিয়ার রহমান তার বাবাকে সেনাবাহিনীর স্পেশাল ও পৌষ্য কোটায় ঢাকায় কিছু লোক নিয়োগ করা হবে জানায়। টাকা দিলে তার ছেলেকে চাকরিতে ঢুকিয়ে দিতে পারবে বলেও জানায় সে। তার কথামত যশোরের বাসিন্দা সেনাবাহিনীর অফিসার পরিচয়দানকারী হামিদ খাঁর (যার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নং ০১৯১৪০০০২৯৩) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হামিদ খাঁ তাদের সঙ্গে দেখা করে চাকরির জন্য চার লাখ টাকা দাবি করেন। কথামত চার লাখ টাকা নিয়ে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর জুয়েল তার বাবা কামালকে নিয়ে হামিদ খাঁ ও ফসিয়ার রহমান ঢাকায় আসেন। তাদের মতিঝিলের ইনসাফ হোটেলে রেখে সেনাবাহীনির মেজর পরিচয় দানকারী হামিদ খাঁ বাইরে চলে যায়। যাওয়ার সময় তাদের বলে যায় তিনি সেনাবাহীনির অফিসার মেসে যাচ্ছেন তাদের বাইরে থাকা নিষেধ আছে। পরের দিন সকালে সেনাসদস্যদের মতো চুল ছাঁটা একজন লোক ও ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মিঠুন ঘোষ ওরফে ভুয়া মেজর রফিকুল ওরফে অপুকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে আসেন হামিদ। সেখানে হামিদকে কম চুলওয়ালা লোককে সেনাবাহীনির সিলেকশন বোর্ডের মেজর এবং অপুকে মেডিকেল কোরের মেজর পরিচয় দেয়া হয়। একপর্যায়ে হোটেলে অতি গোপনে তাদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। তার সঙ্গে সেখানে আরো কয়েকজনকে পরীক্ষা দিতে দেখেন। পরীক্ষা শেষে তাদের ১০ জনকে মেডিকেল চেকআপ করে তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে সেনাবাহিনীর সিল সম্বলিত নিয়োগপত্র ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে তারা নিয়োগপত্রের যোগদানের তারিখ মোতাবেক সেনাবাহীনির সদর দপ্তরে যোগদান করতে গেলে বিষয়টি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।

বিশেষ প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।