ব্যাংকিং মার্জারে গাইডলাইন আসছে

ব্যাংকিং মার্জারে গাইডলাইন আসছে

বিশেষ প্রতিনিধি, এসবিডি নিউজ24 ডট কম: কোন রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংক অন্য কোন ব্যাংকের সঙ্গে মার্জার বা একীভূতকরণের প্রয়োজন হলে তার জন্য একটি গাইডলাইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্বাবধায়নে এ গাইড লাইনটি তৈরি করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, আগামী বছরের মধ্যে এই গাইডলাইনটি চূড়ান্ত করা হবে। গাইডলাইনটি চূড়ান্ত করা হলে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত বা মার্জার করা যাবে।

সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আয়োজিত এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বলা হয়, বর্তমানে ব্যাংক কোম্পানি আইনে ব্যাংকগুলো অবসায়ন অথবা একীভূত হবে তা নির্দিষ্টভাবে বলা আছে। এরপরও বিষয়টি আরও সহজ এবং নমনীয় করার জন্য এই গাইড লাইন প্রণয়ণ জরুরি হয়ে পড়েছে। গাইড লাইনটি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণয়ন করবে তবে এ বিষয়ে যাবতীয় সহযোগিতা করবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।


বৈঠকের জন্য তৈরিকৃত কার্যপত্রে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ বিষয়ক সুপারিশে বলা হয়েছে, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ও ঋণ অনুমোদনের বিদ্যমান পলিসি/পদ্ধতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে নিয়মিত রিভিউ করতে হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বোর্ড কর্তৃক অনুমোদনযোগ্য ঋণের ক্ষেত্রে শাখা থেকে প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত স্তরগুলোর দু’একটি ধাপ কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। জমি বা ভূ-সম্পত্তিকে জামানত বা সহায়ক জামানত হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য জালিয়াতি প্রতিরোধে জামানত বা সহায়ক জামানতের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নসহ একটি কেন্দ্রীয় তথ্য কোষ গঠন করার সুপারিশ করা হয়েছে।


এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ঋণ গ্রহীতাকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নেয়ার জন্য ১৫০ শতাংশ জামানত দিতে হয়। এটি পরিবর্তন/সংশোধন করার বিষয়টি পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জামানত হিসেবে জমির মূল্যমান নির্ধারণে অনুসরণীয় নীতিমালা/গাইডলাইন প্রণয়নের মাধ্যমে ঋণ কেসের জামানত যাচাই প্রক্রিয়া আরো উন্নততর করতে হবে। সুপারিশে বলা হয়েছে, ঋণ প্রস্তাব মূল্যমানের ক্ষেত্রে জামানতের পাশাপাশি প্রকল্পের ক্যাশ ফ্লো, ক্রেডিট রিক্স গ্রেডিং ভালভাবে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বিষয়টি মনিটর করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।


‘নো ইউর কাস্টমার’ (কে ওয়াই সি) বিষয়টি ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য বিবেচনা করা হয়। ঋণ গ্রহীতাদের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্বাবধানে সি-কে ওয়াই সি (সেন্ট্রাল কে ওয়াই সি) এবং ই-বিএএম (ইলেক্ট্রনিক ব্যাংক এ/সি ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের ব্যবস্থা প্রবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত তালিকাভূক্ত সার্ভেয়ার/কোম্পানির মাধ্যমে ঋণ প্রস্তাবের ফিজিবিলিটি স্টাডি করার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। ঋণ অনুমোদনের আগে অবশ্যই গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিং করার ব্যবস্থা নিতে হবে।


কার্যপত্রে ঋণ আদায় বিষয়ক সুপারিশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ঋণ বিতরণ ও আদায়ের কাজে সংশ্লিষ্টদের ভাল ঋণ বিতরণ ও মন্দ ঋণ আদায়ের জন্য প্রণোদনা প্রদান এবং মন্দ ঋণ বিতরণ ও ঋণ আদায়ে ব্যর্থতার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা প্রবর্তণ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে বড় বড় খেলাপীদের তালিকা পত্রিকায় প্রকাশ করার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাংকগুলোর ১০০ কোটি টাকার উপরে বৃহৎ খেলাপী ঋণ গ্রহীতাদের আলাদা ডেট-মনিটরিং এর আওতায় এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ডেট রিকভারি ম্যানজমেন্টের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। মামলার সংখ্যা কমানোর জন্য ঋণ গ্রহীতা বা তার পক্ষে মামলা করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের পাওনা অর্থের ৫০ শতাংশ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দানের ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।

বিশেষ প্রতিনিধি