শিমবোরস্কা আর নেই

শিমবোরস্কা আর নেই


সাযযাদ কাদিরঃ

১৯৯৬ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী পোলিশ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক ভিসওয়াভা শিমবোরস্কা আর নেই। গত ১লা ফেব্রুয়ারি পোলান্ডের প্রাচীন নগরী ক্রাকুফ-এ নিজের বাড়িতে ঘুমের মধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘকাল ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন ভিসওয়াভা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

নোবেল কমিটি জানিয়েছিল, ভিসওয়াভা’র পুরস্কার পাওয়ার কারণ ‘‘কবিতায় শ্লেষাত্মক ইঙ্গিতে মানবিক বাস্তবতার ভগ্নাংশে ঐতিহাসিক ও জীববৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের আলোকপাত’’। পোলান্ডের প্রেসিডেন্ট ব্রোনিসোয়াফ কোমোরোফস্কি এক শোকবার্তায় বলেছেন, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক সত্তা। তাঁর কবিতায় আমরা পাই অনেক গভীর সুপরামর্শ, তাতে আমাদের চারপাশের জগৎ ও জীবনকে আমরা বুঝতে পারি সহজে।

শারীরিক সমস্যা ছিল, তবুও ভিসওয়াভা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন নতুন-নতুন কবিতা লিখতে। তবে সেগুলিকে গ্রন্থভুক্ত করার সময় হয় নি তাঁর। এ বছরের শেষ দিকে বইটি ছাপা হবে বলে জানা গেছে।

ভিসওয়াভা’র জন্ম ১৯২৩ সালের ২রা জুলাই, পশ্চিম পোলান্ডের বিনিন শহরে। চার বছর বয়স থেকে তাঁর কবিতা লেখা শুরু। তবে প্রথম কবিতা ছাপা হয় ১৯৪৫ সালে, দিয়েনিক পোলস্কি নামের এক পোলিশ দৈনিক সংবাদপত্রে। তাঁর ওই প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘‘শুকাম স্লোভা’’ (আমি খুঁজছি একটি শব্দ)। পত্রিকাটির সম্পাদক, কবি ও অনুবাদক আদাম ফ্লোদেক (১৯২২-১৯৮৬)-এর সঙ্গে ভিসওয়াভা’র বিয়ে হয় ১৯৪৮ সালে, বিচ্ছেদ ঘটে ১৯৫৪ সালে। পরে সহবাস করেছেন বিশিষ্ট লেখক করনেল ফিলিপোভিশ (১৯১৩-১৯৯০)-এর সঙ্গে। কোনও সম্পর্কের সূত্রেই মা হন নি তিনি।

ভিসওয়াভা’র ‘প্রথম দেখায় প্রেম’ কবিতাটির অনুপ্রেরণায় ‘থ্রি কালারস্: রেড’ (১৯৯৪) ছবিটি নির্মাণ করেছেন বরেণ্য পোলিশ চলচ্চিত্রকার ক্রিসটোফ কিয়েস্লোফস্কি (১৯৪১-১৯৯৬)। তবে রচনার পরিমাণ খুব বেশি নয় ভিসওয়াভা’র। কবিতা লিখেছেন ২৫০-এরও কম। এত কম কবিতা লেখার কারণ জানতে চাইলে উত্তর দিয়েছেন, আমার বাড়িতে একটা বাজে কাগজের ঝুড়ি আছে!

Admin

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।